ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের বিষ

ইসরায়েলের মাঝে পশ্চিম তীর ও গাজা (ফিলিস্তিনি)

রিয়াজ ওসমানী

৮ নভেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের গণমাধ্যম, মোল্লা সমাজ ও বামপন্থী গোষ্ঠী যুগের পর যুগ ধরে ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতটিকে একবারেই একপেশে করে উপস্থাপন করে এসেছে। এর ফলে বাংলাদেশে বংশের পর বংশের মনে এক প্রকার বাতিক জন্মেছে হাওয়া বাতাসের বেগ বাড়লে বা কমলেও দিনে অন্তত একবার ফিলিস্তিনিদের জন্য মায়াকান্না করে নিজের বিবেক, আবেগ, ইমান সব কিছুর সাফাই গাইতে। পৃথিবীর সকল ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু যেন এটাই, আর যোগসূত্র থাকুক বা না থাকুক, আন্তর্জাতিক সকল সংঘাতের গোড়াতেই যেন ফিলিস্তিনিদেরই কথা সবার আগে মনে পড়ে।

কে কার জায়গা দখল করে আছে এই প্রশ্নটাই যেমন ভুল, ঠিক তেমনি তার উত্তরটাও সহজ নয়। ইহুদিরা যে এই অঞ্চলের আদিবাসী সেটাতো ঐতিহাসিকভাবেই প্রমাণিত। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর ইসরায়েল দেশটি স্থাপনের ফলে ফিলিস্তিনিদের যে চরম ক্ষতি হয়েছে সেটাও অনস্বীকার্য। এবং এর সমাধান যে দুইটা রাষ্ট্র তা দুনিয়া অনেক আগেই মেনে নিয়েছে।

কিন্তু সেটার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই পক্ষেরই চরমপন্থীরা। ফিলিস্তিনিদের মধ্যে রয়েছে হামাস নামের একটি মৌলবাদী ও সন্ত্রাসী দল যা প্রতিদিন ইসরায়েল ধ্বংসের ডাক দেয় এবং কয়েক বছর পর পর ইসরায়েলে রকেট মারার অভিযান শুরু করে ইসরায়েলকে চরমভাবে প্রতিশোধ নিতে বাধ্য করে। আর ইসরায়েলিদের মধ্যে রয়েছে বড় একটা ডানপন্থী গোষ্ঠী যারা কোনো অজুহাতেই ফিলিস্তিনিদের জন্য জমি ছেড়ে দিতে নারাজ।

এই পরিস্থিতিটির সমাধান করতে কয়েক মার্কিন প্রশাসন তাদের মেধা ও শ্রম ব্যয় করেছে। কিন্তু প্যালেস্টাইন নামের একটি রাষ্ট্রের সাথে ইসরায়েলের সীমানা কোন কোন জায়গা দিয়ে যাবে তার কোনো সমঝোতাতেই দুই পক্ষ এখন পর্যন্ত আসতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয় জোর করে একটা সীমানা তৈরি করে দেওয়া।

ফলে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা দুর্দশাই রয়ে গিয়েছে আর বাংলাদেশের গণমাধ্যম দায়িত্বশীলভাবে শুধু সেই সংবাদটি প্রচার করে এসেছে যখন ইসরায়েলি সেনার হাতে কোনো ফিলিস্তিনি মরে। সেই হত্যাকান্ডটি যে অনেক সময়েই ফিলিস্তিনিদের পক্ষ থেকে প্রথম হামলাটির প্রতিশোধ, সেটা আর উল্লেখ করা হয় না। ফিলিস্তিনিরা যখন ইসরায়েলিদের আক্রমণ করে তখন বাংলাদেশের অগারাম গণমাধ্যম হয়ে যায় বোবা।

সব কিছুর ফল দাঁড়িয়েছে যে বাংলাদেশিরা একটি চরম ইহুদি আর পশ্চিমা বিদ্বেষী মনোভাব নিয়ে রাতের বেলা ঘুমাতে যাচ্ছে। ইতিহাস প্রকৃতভাবে উদঘাটন করার বা জানার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা আগ্রহ পোষণ না করে হুজুকে চলেফিরে দুনিয়াটার সম্বন্ধে একটা জগাখিচুড়ি ধারণা নিয়ে বাস করছে আর নবপ্রজন্মের মস্তিষ্ক কলুষিত করছে।

যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বনাম হিজড়া সম্প্রদায়

রিয়াজ ওসমানী

১৫ অক্টোবর ২০২২

এই জঘন্য ঘটনাটি একটি ব্যাপারকে প্রমাণিত করে দেয়। আর তা হচ্ছে যে হিজড়া সম্প্রদায় আর আমাদের যৌন সংখ্যালঘু (এলজিবিটি) সম্প্রদায় ভিন্ন জিনিষ। হিজড়ারা সমকামী, রূপান্তরকামী, আন্তঃলিঙ্গ ইত্যাদিদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে দেখতে চায় না। কারণ সেটা হলে হিজড়া সম্প্রদায় ভাতে মরবে। এটা সত্যি যে ঐতিহাসিকভাবে যৌন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে বহু মানুষ পরিবার ও সমাজ থেকে বিতারিত হয়ে হিজড়া সম্প্রদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে এবং সেখানে ক্রমান্বয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এবং সেই কারণে তাদের প্রতি বাকি যৌন সংখ্যালঘুদের অনেক মায়াও রয়েছে। কিন্তু এই হিজড়ারা নিজেদেরকে বৃহত্তর যৌন সংখ্যালঘুদের শত্রু বানিয়ে ফেলেছে এই ধরণের ঘটনাগুলোর কারণে। এদের প্রতি আর মায়া প্রদর্শন করে লাভ নেই৷ সমকামী, রূপান্তরকামী, রূপান্তরলিঙ্গ, রূপান্তররূপী, আন্তঃলিঙ্গ, অদ্বৈত ইত্যাদি সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে এবং সেটার সাথে হিজড়া সম্প্রদায়ের বিলুপ্তি আনতে হবে।

ইউরোপে ডানপন্থী রাজনৈতিক দলের উত্থান

রিয়াজ ওসমানী

১৩ অক্টোবর ২০২২

ইউরোপের বামপন্থী এবং মধ্যপন্থীরা ইচ্ছা করলেও যেটা প্রকাশ করতে পারে না, তা ডানপন্থীদের মুখ থেকে এখন সহজেই বের হয়। আর তাই অভিবাসনের কারণে নিজেদের দেশের চেহারা বদলে যাওয়াকে যারা ভয় পাচ্ছে, তারা তাদের মাঝে খুঁজে পেয়েছে তাদেরই রাজনৈতিক প্রতিনিধি। সেই রাজনীতিবীদরা অন্য দিকে বিশ্বায়নের কারণে সেই ভীতু মানুষদের বর্তমান সময়কার জীবন যাত্রার মানের অবনতিকে পুঁজি করে ক্ষমতায় আসার পথ খুঁজে পেতে শুরু করেছে৷ এই পরিস্থিতি কিছুটা বিপদজনক।

বহুসংষ্কৃতিবাদ বিষয়টি ইউরোপের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে বেশি সফল। এর কারণ মার্কিন নাগরিক হতে হলে ইংরেজিভাষী, খ্রিস্ট ধর্মালম্বী ও শ্বেতাঙ্গ হবার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যে কেউই যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান, কিছু আদর্শ ও আইন-কানুনের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে সময়ের সাথে সাথে সত্যিকার অর্থেই আমেরিকান হয়ে যেতে পারে। কেউ একটা টু শব্দ করে না। কিন্তু ইউরোপে বহুসংষ্কৃতিবাদের অভিক্রিয়াটি ব্যর্থ। তার কারণ সেখানে একজনের নাগরিক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা এখনও নির্ভর করে সে কোথাকার আদি মানুষ, তার গায়ের চামড়ার রঙ কী, তার ধর্ম কী, তার মাতৃভাষা কী, তার বেশভূষা কী ইত্যাদির উপর। তাই যত সহজে একজন বাংলাদেশি মানুষ আমেরিকায় গিয়ে সেখানকারই একজন হয়ে যেতে পারে, সে বা অন্য কোনো বাংলাদেশি মানুষ, অথবা ইউরোপের স্থানীয় লোকদের চেয়ে ভিন্ন কোনো গোত্রের মানুষ ইউরোপের অনেক দেশেই গিয়ে অত সহজেই সকলের চোখে সেই দেশের মানুষ হয়ে যেতে পারে না।

যদি পারতে হয়, তো বারতি চেষ্টা করে অল্প সময়ের মধ্যেই সেই দেশের মানুষগুলোর মতো হয়ে যেতে হয় (যতটুকু সম্ভব)। আর এখানেই আসে মুসলমান অভিবাসীদের নিয়ে বড় ফ্যাকড়া৷ এরা অতি সহজে তাদের নতুন দেশের প্রচলিত সংষ্কৃতি মেনে নেয় না৷ যে সকল এলাকায় এই অভিবাসীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ক্রমশ বৃদ্ধি পায়, সেই এলাকাগুলোকে আগের স্থানীয় মানুষরা আর চিনতেই পারে না। ইউরোপে যারা আজকাল ডানপন্থী রাজনীতিবীদদের নির্বাচিত করছে, তারা এই অপরিচিত পরিস্থিতিটিকে ভয় পেয়েই তা করছে। এর সমাধান সহজে অনুমেয় নয়।

রাশিয়া-ইউক্রেনের যুদ্ধের জন্য রাশিয়াকে এক তরফাভাবে দোষ দিলেই কি চলবে?

রণক্ষেত্র

রিয়াজ ওসমানী

৭ সেপ্টেম্বর ২০২২

আচ্ছা আমেরিকা যখন কোনো দেশ আক্রমণ করেছে তখন কি বুমবামরা রাশিয়ার দোষ খুঁজেছে? আমার তো মনে হয় না। তো এখন রাশিয়া যে ইউক্রেন আক্রমণ করলো, সবাই আমেরিকার দোষ খুঁজছে কেন?

সাম্যবাদের কাঁচকলা, আর বাংলাদেশের অগারাম গণমাধ্যমের কচুরিপানা খেয়ে ইনারা দুনিয়াটাকে একটা হিমায়িত কল্পনার জগত বানিয়ে ফেলেছে যা বাস্তবের সাথে কোনো মিল রাখে না। এই সংঘাতটি তুলনামূলক কাছে থেকে এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে অবলোকন করে নিম্নে আমার বিশ্লেষণ দিলাম।

বিঃ দ্রঃ পৃথিবীর প্রতিটি সংঘাত তার নিজস্ব বিশ্লেষণের দাবীদার। সস্তা মার্কা কিছু মুখস্ত করা প্রলাপ সব ক্ষেত্রে খাটে না।


স্বাধীন ও সার্বভৌম ইউক্রেন দেশটি ন্যাটোতে যোগদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল মাত্র। ন্যাটোর কোনো সদস্য ইউক্রেনকে ন্যাটোতে আসার আমন্ত্রণ জানায়নি।

ন্যাটোর উদ্দেশ্য একটিইঃ একটি সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হলে সেই আক্রমণটিকে বাকি সদস্যরা তাদের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রমণকৃত দেশটিকে সকলে মিলে রক্ষা করবে।

ইউক্রেনের এই ইচ্ছাটিকেই রাশিয়ার স্বৈরাচারী পুতিন একটা হুমকি হিসেবে দেখে, যদিও সেটার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। সোভিয়েট ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর খোদ রাশিয়াকেই ন্যাটো একটি সহকারী সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যেটা রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করে।

এদিকে পুতিন অনেক আগেই সোভিয়েট ইউনিয়নের বিলুপ্তি মেনে নিতে পারেনি এবং সেই সাম্রাজ্যটাকে আবার প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।

সেটার উদাহরণ হিসেবেই ২০১৪ সালে রাশিয়া বিশ্বকে চমকিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্রাইমিয়াকে দখল করে নিয়ে যায়। আর ইউক্রেনের ন্যাটো যোগদান করার ইচ্ছাটাকে হুমকি স্বরূপ অজুহাত দেখিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনকে গ্রাস করে ফেলে সোভিয়েটের একটা ভিত্তি আবার স্থাপন করার চেষ্টা শুরু করে।

ক্রামিয়ার সময়ে পশ্চিমা দুনিয়া কিছু করতে পারেনি। কিন্তু সেই ভুল ইউক্রেনকে নিয়ে তারা করতে নারাজ। রাশিয়াকে কিছুতেই আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে গ্রাস করতে দেয়া যাবে না। তার উপর ইউক্রেন একটা গণতন্ত্র এবং রাশিয়া একটা স্বৈরতন্ত্র। গণতন্ত্ররা অন্য গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে সেটাই স্বাভাবিক।

তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা ইউরোপের অনেক দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়াকে ঠেকাতে সহায়তা করে যাচ্ছে। এটা পশ্চিমা দুনিয়ার নৈতিক দায়িত্ব।

সমকামীদের বিয়ে? বিবাহের রাষ্ট্রীয় সংজ্ঞায় তার স্থান কোথায়?

রিয়াজ ওসমানী

২৩ মে ২০২২

বাংলাদেশের কিছু সমকামীরা তাদের অধিকার বলতে সমলৈঙ্গিক মানুষদের মাঝে বিবাহের প্রথা এবং অনুমোদন বুঝে। আমি বলবো যে বাংলাদেশে সমকামীদের বিয়ের প্রসঙ্গ উত্থাপন করার সময় এখনো আসেনি। এখন মনোযোগ দেয়া উচিৎ ১) বাংলাদেশের দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারার সংশোধনী নিয়ে (যা নিয়ে আমি আমার ব্লগে আগেই লিখেছি) এবং ২) দৃশ্যমানতার মাধ্যমে (অর্থাৎ অনলাইন ও ব্যক্তিগত বিনিময়ের মাধ্যমে) সমাজে আমাদের অবদান, অধিকার ইত্যাদি নিয়ে জনগনের মাঝে (এবং নিজেদের মাঝে) ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা নিয়ে (যদিও তা মুসলমান প্রধান দেশে পাহাড় সরানোর চেয়েও কঠিন)। এই দুটো উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সমকামীদের বিয়ে নিয়ে কথা বলা অর্থহীন।

তার উপর আছে একটি ভিন্ন ব্যাপার। বাংলাদেশে বিবাহের রাষ্ট্রীয় নীতি ধর্মীয় অনুশাসনের আদলে গঠিত। অর্থাৎ সেই বিয়েটা একটা নারী ও পুরুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং ধর্মীয় অনুশাসন বদলানোর চেষ্টা করাটা সময়ের অপচয়। তার উপর যেখানে ভিন্ন ধর্মের মানুষ এখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে বিয়ে করতে পারে না বা সেটা করতে গেলে অনেক বাধার সন্মুখীন হতে হয়, সেখানে সমকামীরা বিয়ে করতে পারবে এমনটা ভাবাও বোকামি। নাস্তিকরাও বিয়ে করতে গেলে কোনো না কোনো ধর্মীয় রীতির অধীনেই সেটা করতে হয়।

এর অর্থ হচ্ছে বাংলাদেশের আইনের খাতায় এখনও ধর্মনিরপেক্ষ বিবাহের বিধান নেই। এমন কোনো বিধান নেই যে সরকারের নির্ধারিত কর্মচারীরা বিয়ের কোনো কার্যালয়ে কোনো ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সাক্ষীদের সামনে কোনো নারী এবং পুরুষ (তারা যেই ধর্মেরই হউক না কেন) তাদেরকে স্বামী ও স্ত্রী হিসেবে ঘোষণা দিতে পারে। সবচেয়ে আগে এরকম একটা রাষ্ট্রীয় বিধানের জন্য আলোচনা শুরু করতে হবে। একজন নারী ও পুরুষ ভিন্ন ধর্মালম্বী হলে বা তাদের মাঝে একজন বা দুইজনই নাস্তিক হলে তারা এরকম একটি ধর্মহীন সরকারি আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একজন আরেকজনকে যেন বিয়ে করতে পারে। তাদের সংসার কী রকম হবে বা তাদের সন্তানরা কোন ধর্মের অনুসারী হবে (আদৌ হবে কি না) সেটা একান্ত তাদের পারিবারিক ব্যাপার হিসেবেই থেকে যাবে।

এর মানেটা হচ্ছে বাংলাদেশের আইনের খাতায় বিবাহের সংজ্ঞাটার বিস্তৃতকরণ প্রয়োজন। একই ধর্মের নারী ও পুরুষ তাদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তারপরও বিয়ে করতে পারবে। কিন্তু যারা সেই ছকের বাইরে পড়বে, তারাও যেন বিয়ে করতে পারে, রাষ্ট্র যেন তাদের বিয়ের সমান স্বীকৃতি দেয় ইত্যাদি। এই বড় পরিবর্তনটা আনতে পারলে ভিন্ন ধর্মালম্বী বা নাস্তিকদের আর ধর্মান্তরিত হওয়ার মতো কঠিন পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে হবে না। বিয়ে করার জন্য মনে বিশ্বাস নেই এমন ধর্মে রূপান্তরিত হওয়ার নাটকের বাধ্যবাধকতা অমানবিক।

ধর্মনিরপেক্ষ বিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ায় নতুন কিছু নয়। তবে বাংলাদেশে সেটা কল্পনা করাটাও কিছুটা বৈপ্লবিক ব্যাপার। কিন্তু একটা রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে এরকম বিধান অবশ্যই আনতে পারে। কারণ এতে ধর্মীয় বিয়ের পথে কোনো বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে না। শুধু যাদের পক্ষে এসকল ধর্মীয় গণ্ডির আওতায় বিয়ে করা সম্ভব নয় অথচ তারা একে অপরকে ভালোবেসে বাকিটা জীবন একত্রে কাটাতে চায়, তাদের ভালোবাসা ও আনুগত্যকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার একটা পথ খুলে যায়। ধর্মীয় বিয়ের মতো এই বিয়েগুলোও হবে রাষ্ট্রের চোখে সমান মর্যাদাপূর্ণ।

বিবাহের রাষ্ট্রীয় সংজ্ঞার এই বর্ধিতকরণের পরেই সমকামীদের বিয়ের প্রসঙ্গ তোলা যায়। তার আগে নয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে যে বিয়ের সংজ্ঞা আরো বিস্তৃত করা যায়, তার দৃষ্টান্ত বাংলাদেশে এখনও স্থাপিত হয়নি। সেটা যদি কখনো স্থাপন করা যায় তো তবেই সেই সংজ্ঞাকে আরো বিস্তৃতি করে সমকামীদের বিয়ের স্থান করে দেয়া যেতে পারে। সেটাও হবে একটি ধর্মহীন সরকারি অনুষ্ঠানিকতা এবং নারী ও পুরুষের মাঝে ধর্মীয় বিয়ের সমান মর্যাদাপূর্ণ। সেই বিবাহগুলো হবে লিঙ্গ এবং লিঙ্গ পরিচয় নিরপেক্ষ। অর্থাৎ সমকামীদের পাশাপাশি রূপান্তরকামী, আন্তঃলিঙ্গ, অদ্বৈত ইত্যাদি মানুষরাও নিজেদের আত্মপরিচয়ের ভিত্তিতেই বিয়ে করতে পারবে – কোনো বিশেষ ধর্মের বিধান এবং নারী-পুরুষ ছকের আওতায় না।

******************************

অভিযোগ যত বড় তার প্রমাণাদি তত বড় চাই

অধ্যাপক ইউনুস

উইকিলিক্সে তো কত কিছুই বের হয়ে আসলো। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন অধ্যাপক ইউনুসকে অপদস্ত না করতে, না হলে বিশ্ব ব্যাংক কতৃক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে, তার সব নথিই বের হয়ে এসেছে। খালি একটা নথিই খুঁজে পেলাম না। ইউনুস সাহেব যে নিজেই ক্লিন্টনকে অনুরোধ করেছিলেন পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করতে বিশ্ব ব্যাংককে চাপ দিতে তার কোনো ইমেল, চিঠি বা কন্ঠালাপের ফাঁস নজরে আসেনি। নেটে বহু মানুষের সাথে আলাপ করেও এরকম কিছুর হদিস পেলাম না।

অথচ এরকম প্রমাণাদি ছাড়া ইউনুস সাহেবের উপর এত বড় দেশদ্রোহিতার অভিযোগ ধোপে টিকে কী করে? শেখ হাসিনা আর তার পুত্র জয় যা বলেন তার সবই কি আদালতের কাঠগোড়ায় দাঁড়াতে পারে? এমনও তো হতে পারে যে গ্রামীন ব্যাংককে কেন্দ্র করে ক্লিন্টন পরিবারের সাথে অধ্যাপক ইউনুসের দীর্ঘ বন্ধুত্বের আদলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন নিজ উদ্যোগেই বাংলাদেশ সরকারের উপর পদ্মা সেতু নিয়ে চাপ সৃষ্টি করে।

ইউনুস সাহেব যে নিজেই হিলারিকে অনুরোধ করেছিলেন হাসিনাকে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধ করবেন বলে হুমকি দিতে তার শক্ত প্রমাণাদি কই? সবাই কালেমার মতো তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রচারণা গিলেছে এবং তোতা পাখির মতো তা পুনরাবৃত্তি করেছে। কানে হাত না দিয়েই চিলের পেছনে দৌড়!

বাংলাদেশের সমকামীদের অধিকার – অত রহস্যময় কিছুই নয়

দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা

রিয়াজ ওসমানী

২১ এপ্রিল ২০২২

বাংলাদেশে সমকামীদের অধিকারের কথা উঠলে কতই না প্রসঙ্গের আবির্ভাব ঘটে। এর মধ্যে ধর্মীয় প্রসঙ্গ একটি এবং রাষ্ট্রীয় প্রসঙ্গ আরেকটি৷ অনেকবার বলেছি যে ধর্মীয় প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে অপ্রাসঙ্গিক যেহেতু দেশের দণ্ডবিধিটি শরীয়া আইন দ্বারা গঠন করা হয়নি (কোনো দিন সেটা করতেও দেয়া যাবে না)। কাজেই এই বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যাপারটাই মুখ্য।

কিন্তু সেই প্রসঙ্গেও শোনা যায় যত আজগুবি কথা। আমাদের সংবিধানে নাকি সমকামিতা নিষিদ্ধ। এটা ডাহা মিথ্যা। সংবিধানের কোথাও এই বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা নেই। অন্য দিকে আলাদা আইন করে সমকামীদের স্বীকৃতি চাওয়াটাও অপ্রয়োজনীয়। বস্তুত সেটা কোনো দেশে করা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যেটা করা হয়েছে সেটা হচ্ছে সমকামীদেরকে রাষ্ট্রের চোখে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা আইনগুলোর বিলুপ্তকরণ বা পরিবর্তন।

বাংলাদেশে সেই আইনটা হচ্ছে দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা। অনেক দেশের মতো আমরাও বিলেতিদের রেখে যাওয়া এই কালো আইনটি স্বাধীনতা লাভের পরও রেখে দিয়েছি। এখানে ধারাটির একটি অনানুষ্ঠানিক বাংলা অনুবাদ দিলামঃ “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা পশুর সাথে প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌনাচারে লিপ্ত হবে, তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা সহ জরিমানা দিতে বাধ্য করা হবে। ব্যাখ্যাঃ এই ধারাতে উল্লেখ করা দণ্ডনীয় যৌনাচার বলতে অনুপ্রবেশই যথেষ্ট।”

এখানে যেটা লক্ষণীয় সেটা হচ্ছে যে কোন প্রকার অনুপ্রবেশকে প্রকৃতিবিরুদ্ধ হিসেবে বিবেচিত করা হবে, তা সঠিকভাবে এই ধারাটিতে উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু কালক্রমে সবাই এখানে পায়ুসঙ্গমকে বুঝে নিয়েছে এবং এর ফলে সমকামীদেরকে অপরাধী বানিয়ে ফেলেছে৷ এখানে একটা বড় রকমের অযৌক্তিকতা আছে এবং এই ধারার ফলে বাংলাদেশে নারী সমকামীরাই বা কীভাবে অপরাধী হয়ে গেল সেই প্রশ্নটাও থেকে যায়।

এই আলোচনা বহু পুরানো আর তাই সেটা নিয়ে আর কথা না বাড়িয়ে দণ্ডবিধির ধারাটি কীভাবে সংশোধন করা যায় সেটা তুলে ধরতে চাই। সংজ্ঞাটি থেকে “পুরুষ, নারী বা” শব্দগুলো বাদ দিলেই এখানে ধারাটির মানে সম্পূর্ণ বদলে যায়। ধারাটি পড়তে তখন এরকম হবেঃ “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো পশুর সাথে প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌনাচারে লিপ্ত হবে, তাকে……….”। অর্থাৎ ৩৭৭ ধারা তখন আর সমকামিতার বিরুদ্ধে বিবেচিত হবে না, বরং শুধু পশুকামিতার বিরুদ্ধে বিবেচিত হবে।

এই পরিবর্তনটা ছোট মনে হলেও বাংলাদেশে সেটা অর্জন করা পাহাড় সরানোর চেয়েও কঠিন, যার কারণগুলো ধর্মীয় এবং রাজনৈতিক। তাই সব কিছুর আগে সবাইকে বুঝতে হবে বাংলাদেশের ঠিক কোন আইনটার ফলে কীভাবে দেশের সমকামীরা অপরাধী হয়ে গেল। তারপর সবাইকে স্পষ্ট করে বুঝতে হবে আইনটার কোন বিশেষ সংস্কারটি করতে পারলে সমকামীরা আর অপরাধী থাকবে না। ভবিষ্যতে দেশের সর্বোচ্চ আদালত ব্যবহার করে এই সংস্কারটি আনার কল্পনা করার আগে সবাইকে পরিষ্কার হয়ে যেতে হবে সংস্কারটা কোথাকার এবং কোন প্রকারের।

৩৭৭ ধারা নিয়ে সকলের মাঝেই একটা ধোঁয়াশা ধারণা কাজ করে৷ অনেকেই বাংলা অনুবাদটাও ঠিক মতো পড়েনি। সকলের দায়িত্ব এই প্রসঙ্গটার সম্বন্ধে ভালো করে অবহিত হয়ে যাওয়া। তারপরেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আরেকটু সহজ হয়ে আসতে পারে।

দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারার এই সংস্কারটির পাশাপাশি আরেকটা অর্জনও করতে হবে। সম্প্রতি বাংলাদেশের সংসদে একটি যুগান্তকারী বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া উত্থাপন করা হয়েছে৷ কিন্তু এখানে কৌশলে যৌন প্রবৃত্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মতো সমকামীরাও যেন এই বৈষম্যবিরোধী আইনের আওতায় আসে, তার জন্য যেসকল জিনিষের ভিত্তিতে কারোর বিরুদ্ধে বৈষম্য করা যাবে না, সেসকল জিনিষের তালিকায় যৌন প্রবৃত্তিকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই বিষয়ে আমাদেরকে এখনই সোচ্চার হয়ে যেতে হবে।

পাছে এখনও অনেকে একটা ব্যাপারে স্পষ্ট হতে পারেনি, এখানে আবারও উল্লেখ করে দিচ্ছি যে একটা মানুষের যৌন প্রবৃত্তি তার জন্ম কিংবা তার জন্মের ঠিক পর থেকেই নির্ধারিত, এবং সেই নির্ধারিত যৌন প্রবৃত্তি আর বদল হবার নয়। এই বাস্তবতাটি সমকামীদের বেলায়েও যা, বিষমকামীদের বেলায়েও তা।

******************************

মাদ্রাসাগুলোতে বালক ও বালিকা ধর্ষণ প্রসঙ্গে

রিয়াজ ওসমানী

৭ এপ্রিল ২০২২

মুমিনদের প্রশ্নঃ স্কুল কলেজেও তো এগুলো হয়। তখন আপনারা কই থাকেন?

উত্তরঃ স্কুল কলেজে হলেও মাদ্রাসায় হবে কেন? সেখানে তো ইসলাম শিক্ষা দেয়া হয়। আর স্কুল কলেজে যখন এগুলো হয় তখন কেউ চুপ করে থাকে না।

মুমিনদের প্রশ্নঃ তাতে কী হয়েছে, হুজুররা মানুষ না?

উত্তরঃ মানুষ যদি হয়েও থাকে তো ইসলাম শিক্ষা দেয়ার যোগ্যতা বা অধিকার তাদেরকে কে দিয়েছে? বালক-বালিকা ধর্ষণ এবং/অথবা খুন তো ইসলামের শিক্ষা যারা দেয় বলে ব্যবসা করছে, তাদের কাছ থেকে তো আশা করা যায় না! করা যায়? যদি আশা করা যায় তাহলে ইসলামের কী রূপ পাওয়া যায় সেখান থেকে?

মুমিনদের প্রশ্নঃ অল্প কয়েকজনের জন্য আপনারা বাকিদের দোষ দিচ্ছেন কেন?

উত্তরঃ অল্প না বেশি সেটা জানার জন্য চোখ খুলুন। আর অল্প জনের দোষ যদি বাকিরা ঢেকে রাখে তাহলে বাকিরাও দোষী।

বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী আইন – ২০২২

সংসদ ভবন, ঢাকা

রিয়াজ ওসমানী

৫ এপ্রিল ২০২২

বাংলাদেশের সংসদে একটি যুগান্তকারী বিল উত্থাপন করা হয়েছে যেটা পাস হলে দেশে প্রায় অনেক কিছুরই ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ হয়ে যাবে এবং কেউ সেগুলোর ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার হলে কতৃপক্ষের কাছে তার জন্য প্রতিকার পেতে পারবে। এই বিলটি আইনে পরিণত হলে সেটা বাংলাদেশকে পৃথিবীর সভ্য দেশগুলোর কাতারের কাছে নিয়ে আসতে সহায়তা করবে। তবে বৈষম্য করা যাবে না এমন জিনিষের তালিকায় “যৌন প্রবৃত্তি” (বা সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন) অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এটা একটা বড় রকমের বাদ দেয়া বিষয়। হ্যাঁ, দন্ডবিধির ৩৭৭ ধারার আদলে বাংলাদেশে পায়ুসঙ্গম দন্ডনীয়। কিন্তু এতে সমকামীরা রাষ্ট্রের চোখে যে অপরাধী হবে সেটা যুক্তিহীন এবং অমানবিক (সমকামিতার সাথে পায়ুসঙ্গমের যোগাযোগটা অতিরঞ্জিত)।

তার উপর ৩৭৭ ধারাটি অনৈতিক, যুক্তিহীন এবং অপ্রয়োজনীয়। আর সমকামীদের নিয়ে ইসলাম বা অন্য কোনো ধর্ম কী বললো, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অপ্রাসঙ্গিক। এর কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের দন্ডবিধি বিলেতিদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া “জনসাধারণ আইন” (বা কমন লও) দ্বারা গঠিত, শরীয়া আইন দ্বারা নয় (কোনো দিন সেটা হতেও দেয়া যাবে না)।

কাজেই এই বিলটিতে বৈষম্য করা যাবে না এমন জিনিষের তালিকায় যৌন প্রবৃত্তিকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী আমরা বাংলাদেশে চিরকাল ছিলাম, আছি এবং থাকবো। এবং আমাদের যৌন প্রবৃত্তির ফলে আমরা বাসস্থান, চাকরি ক্ষেত্র, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছ থেকে আজীবন বৈষম্যের শিকার হয়ে থাকতে পারি না।

আপনাদের যাদেরই কোনো সাংসদ, মন্ত্রী, আমলা ইত্যাদিতের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ আছে, তাদেরকে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি তাদেরকে ব্যাপারটা জানিয়ে দিতে যে এই মহৎ বিলটিতে “যৌন প্রবৃত্তি”কেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বাংলাদেশের সকল মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও এই ব্যাপারে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করছি।

এই বিলটি বহু দিন ধরে তৈরি করা হয়েছে এবং এটি আইনে পাস হলে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের অনেক মানুষের উপর। এই উদ্যোগটি প্রতিদিন একটা দেশে নেয়া হয় না। এগুলো কয়েক দশক পর পর হয়। তাই এখানে সমকামীদের ব্যাপারটা উল্লেখ করা না থাকলে বাংলাদেশের একটা জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যত অন্ধকারে থেকে যাবে। বাংলাদেশ সভ্য দেশগুলোর কাতারের কাছে এসেও ঠিক দাঁড়াতে পারবে না। আবার সেই সুযোগ কবে আসবে সেটাও অনুমান করা কষ্টসাধ্য।

আমার কষ্টের বিষয় হচ্ছে যে ২০১৫ সালের দিকে আইন কমিশনের সুপারিশে যখন এই বিলটির খসড়া তৈরি করা হয়, তখন সেখানে যৌন প্রবৃত্তি কথাটা উল্লেখ করা ছিল। মন্ত্রীদের কাছে খসড়াটা আসতে আসতেই সেটা বাদ পড়ে গেল। এমনটা আশঙ্কাও করেছিলাম। আমার সকল সমকামী তথা বৃহত্তর যৌন সংখ্যালঘু বন্ধুবান্ধব এবং শুভানুধ্যায়ীদেরকে এই লেখাটি ঢালাওভাবে প্রচার করতে অনুরোধ করছি।

******************************

বৈষম্যবিরোধী আইনের খসড়া সংসদে – দৈনিক প্রথম আলো

******************************

Britain’s Imperial Past

Prince William and Duchess of Cambridge

Riaz Osmani

28 March 2022

The United Kingdom touts itself for having abolished slavery and that is often used to conveniently ignore the country’s role prior to that abolishment. On the other hand, people in former colonies of the now defunct British Empire have been referred to as “our former friends with a shared history” and the colonial relationship between Britain and the former subjects has been described as something that has enabled “exchange of ideas”. The last bit is an improvement over notions of having “civilized” other people.

On the other hand, countries like India, Pakistan, Bangladesh and others who ditched the Queen at independence shamelessly joined a club called the Commonwealth, an association of all the former colonies and headed by the British Monarch – not very self-respecting in my opinion. And members of the royal family have been visiting all corners of the former British Empire for what exactly? Did “Brand Britain” really need promoting in countries that are still picking up the pieces after the British left?

I have gotten used to the idea that the older generation of Britons like to bask in a glorious image of their country’s imperial history. And the young generation practically know nothing. It would come as a shock to most that the Indian Subcontinent was one of the world’s most prosperous regions before the British arrived as traders. After the traders turned colonialists left 200 years later, the region was one of the world’s poorest. This did not happen by accident. It was the result of that many years of stealing wealth by stealth, upon which Britain grew richer and richer.

Britain’s stately homes are the product of the profits of the slave trade which saw Africans captured, chained, beaten, tortured and shipped from the African continent to the Caribbean and eventually to America. I won’t even mention what adorns the British museum in London. These aspects of British history are conveniently not taught in British schools today.

Instead, Britain has focused on bringing in migrants from all of the former colonies to help build the country since World War II. Impoverished people from those places have lapped up the invitation of a better life in a richer country. This has resulted in Britain changing into a multi-ethnic and multi-cultural country today and the country’s moto shifting from “Rule Britannia” to “Cool Britannia” despite all the early problems of racism and xenophobia from the native white British (note: Britain’s open door was shut after 1986 and the relationship between the British and the colonized far away, while that relationship was still in place, was also defined by racism and white superiority – yes, the colonized were all non-white) .

Young Britons today, particularly those from ethnic backgrounds are finally demanding that the British curriculum be enhanced to teach the aspect of history that had to do with their colonized ancestors. Their history is British history too by virtue of the fact that they too are British. It will be interesting to see, in a not too distant future, how far one can get by bragging about having built railroads in India or Universities here and there. Those beneficial aspects (including inherited legal systems) were byproducts, not the raison d’etre of British colonial adventures.

Oh yes, English becoming the world’s international language, thanks to the British colonialists, has helped international communication greatly too (rendering many native English speakers ignorant of other languages and the intellectual richness that come with them). One can argue that the colonialists laid the ground work for today’s globalization and all the bells and whistles that come with it. But one must place British colonial history in its right context. And that involves looking beyond the whitewashed PR that generations of natives have been fed. The Royal Family too needs to adapt to that reality.

****************************

I haven’t ascertained how Europeans justified the slave trade and to profit from it (other countries included Holland, Belgium etc.). But it has become clear how the the British justified the exploitation of India. Oxford educated Indian academic and politician Shashi Tharoor explained this eloquently in his recent book (Inglorious Empire: What the British did to India) and speeches. Once the British Crown came know about how the British East India Company held the place and people of the Indian Subcontinent under the barrel of a gun to exploit the natural resources (and established an administration/bureaucracy to support it), the Crown and its cronies went on a PR campaign to make native Britons think and believe that the British colonialists were spreading enlightenment to the Indians through British education, administration etc. i.e. they were civilizing them (as if civilization had eluded Indians during the time when the British were a bunch of pirates). This worked wonders to justify the colonization of Indians in the minds of the native Britons. The Crown at a certain later date took direct control of the vast Indian territories held by the Company.

****************************

On the issue of British education in India, educating the masses was never on the cards. The colonialists provided British education to a select few to act as the interlocutor between the rulers and the ruled. This created a new social class consisting of people who were called Babus. They were the bureaucrats whose vestiges still lurk around today. The civil service in the entire Indian Subcontinent is still very people unfriendly and the occupiers of those chairs consider themselves above the rest of the population.

****************************