
রিয়াজ ওসমানী
৭ সেপ্টেম্বর ২০২২
আচ্ছা আমেরিকা যখন কোনো দেশ আক্রমণ করেছে তখন কি বুমবামরা রাশিয়ার দোষ খুঁজেছে? আমার তো মনে হয় না। তো এখন রাশিয়া যে ইউক্রেন আক্রমণ করলো, সবাই আমেরিকার দোষ খুঁজছে কেন?
সাম্যবাদের কাঁচকলা, আর বাংলাদেশের অগারাম গণমাধ্যমের কচুরিপানা খেয়ে ইনারা দুনিয়াটাকে একটা হিমায়িত কল্পনার জগত বানিয়ে ফেলেছে যা বাস্তবের সাথে কোনো মিল রাখে না। এই সংঘাতটি তুলনামূলক কাছে থেকে এবং নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে অবলোকন করে নিম্নে আমার বিশ্লেষণ দিলাম।
বিঃ দ্রঃ পৃথিবীর প্রতিটি সংঘাত তার নিজস্ব বিশ্লেষণের দাবীদার। সস্তা মার্কা কিছু মুখস্ত করা প্রলাপ সব ক্ষেত্রে খাটে না।
স্বাধীন ও সার্বভৌম ইউক্রেন দেশটি ন্যাটোতে যোগদান করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল মাত্র। ন্যাটোর কোনো সদস্য ইউক্রেনকে ন্যাটোতে আসার আমন্ত্রণ জানায়নি।
ন্যাটোর উদ্দেশ্য একটিইঃ একটি সদস্য দেশের উপর আক্রমণ হলে সেই আক্রমণটিকে বাকি সদস্যরা তাদের উপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করবে এবং আক্রমণকৃত দেশটিকে সকলে মিলে রক্ষা করবে।
ইউক্রেনের এই ইচ্ছাটিকেই রাশিয়ার স্বৈরাচারী পুতিন একটা হুমকি হিসেবে দেখে, যদিও সেটার কোনো যৌক্তিকতা ছিল না। সোভিয়েট ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর খোদ রাশিয়াকেই ন্যাটো একটি সহকারী সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল, যেটা রাশিয়া প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে পুতিন অনেক আগেই সোভিয়েট ইউনিয়নের বিলুপ্তি মেনে নিতে পারেনি এবং সেই সাম্রাজ্যটাকে আবার প্রতিষ্ঠা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সেটার উদাহরণ হিসেবেই ২০১৪ সালে রাশিয়া বিশ্বকে চমকিয়ে পার্শ্ববর্তী ক্রাইমিয়াকে দখল করে নিয়ে যায়। আর ইউক্রেনের ন্যাটো যোগদান করার ইচ্ছাটাকে হুমকি স্বরূপ অজুহাত দেখিয়ে রাশিয়া ইউক্রেনকে গ্রাস করে ফেলে সোভিয়েটের একটা ভিত্তি আবার স্থাপন করার চেষ্টা শুরু করে।
ক্রামিয়ার সময়ে পশ্চিমা দুনিয়া কিছু করতে পারেনি। কিন্তু সেই ভুল ইউক্রেনকে নিয়ে তারা করতে নারাজ। রাশিয়াকে কিছুতেই আন্তর্জাতিক নিয়ম ভঙ্গ করে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোকে গ্রাস করতে দেয়া যাবে না। তার উপর ইউক্রেন একটা গণতন্ত্র এবং রাশিয়া একটা স্বৈরতন্ত্র। গণতন্ত্ররা অন্য গণতন্ত্রের প্রতিরক্ষায় এগিয়ে আসবে সেটাই স্বাভাবিক।
তাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও পশ্চিমা ইউরোপের অনেক দেশ ইউক্রেনকে অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ দিয়ে রাশিয়াকে ঠেকাতে সহায়তা করে যাচ্ছে। এটা পশ্চিমা দুনিয়ার নৈতিক দায়িত্ব।